যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে গত মাসে এশিয়ার শিল্পোৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা চাহিদা হ্রাসের কারণে বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার কারখানাগুলোয় কমেছে নতুন ক্রয়াদেশ। এক ব্যবসায়িক জরিপের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।
চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পোৎপাদন খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি খাতে অক্টোবরের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সের (পিএমআই) তথ্য অনুযায়ী, চীনে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় তা নিম্নমুখী হয়েছে। দুই দেশেই রফতানি ক্রয়াদেশ কমেছে।
চীনে গত শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি পিএমআই জরিপে বলা হয়েছে, টানা সাত মাস ধরে দেশটির কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে আগাম রফতানির যে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি থেমে গেছে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্রকাশিত দক্ষিণ কোরিয়ার পিএমআই প্রতিবেদনের দেখা যায়, দেশটিতে সেপ্টেম্বরের তুলনায় গত মাসে শিল্পোৎপাদন সংকুচিত হয়েছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ ঝিচুন হুয়াং বলেন, ‘অক্টোবরে চীনের অর্থনীতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। উৎপাদন ও নির্মাণ উভয় খাতেই প্রবৃদ্ধি কমেছে। স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি রফতানিতে বড় কোনো সহায়তা দেবে না।’
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এশিয়া সফরে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তা সীমিত পর্যায়ের। দক্ষিণ কোরিয়ায় এক বৈঠকে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পারস্পরিক শুল্ক আরোপ এক বছরের জন্য স্থগিত করার বিষয়ে সম্মত হন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে দুই দেশের গভীর বাণিজ্য বিরোধের মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
২০২৫ সালের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে কিনা সেদিকেই এখন বেইজিংয়ের নজর। সরকারের অতিরিক্ত প্রণোদনা ছাড়াই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
চীনের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বাণিজ্য সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট রফতানি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি গত বছরের তুলনায় কমেছে ২৭ শতাংশ।
দক্ষিণ কোরিয়া গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এতে কোরীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কিছুটা কমানো হয়েছে। তবু এটি মূলত একটি সমঝোতা, যা দেশটির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তর-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে এ মন্থর প্রবণতার বিপরীতে ভারতীয় উৎপাদন খাত অক্টোবরে কিছুটা চাঙ্গা ছিল। দেশটিতে স্থানীয় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রফতানির ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে শিল্প খাত। অন্যদিকে মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানের কারখানা কার্যক্রমে পতন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্যনীতি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ এশিয়ার উৎপাদন খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ অবস্থায় অঞ্চলটির বড় অর্থনীতিগুলোকে টিকে থাকতে হলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও আঞ্চলিক বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে।